রাতটি খুলনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ - Bangla24Press

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৯

রাতটি খুলনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

বাংলা ২৪ প্রেসঃঃ ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আরও কাছাকাছি এসেছে। এটি শুক্রবার মধ্যরাতে খুলনা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
এই তথ্যের সঙ্গে আশার কথা শুনিয়েছে ঢাকার আবহাওয়া অফিস। তাদের ভাষ্যে, ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে যে শক্তিমত্তা নিয়ে ফণী আঘাত হেনেছে, বাংলাদেশ অবধি আসা পর্যন্ত তার সেই তেজ থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত ফণী অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।

তারপরও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সচিবালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
ইতোমধ্যে উপকূলের ৪ লাখের বেশি বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার উপকূলবর্তী চার উপজেলা থেকে ১ লাখ ১১ হাজার পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে আবহাওয়া অফিসের ঘূর্ণিঝড় সতর্কতার ৩৯ নম্বর বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের উড়িষ্যা উপকূল ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী আরও উত্তর, উত্তর-পূর্বে অগ্রসর এবং কিছুটা দুর্বল হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার (বেলা ৩টায় ছিল ৪৪৫ কিমি) দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার (৪৯৫ কিমি) দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার (৬৬০কিমি) পশ্চিমে পশ্চিমে অবস্থান করছে।

তবে এটি আরও উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আগামীকাল শনিবার সকালের মধ্যে খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছতে পারে।
ফলে শুক্রবার রাতটি খুলনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইতোমধ্যে ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সকাল থেকেই খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বয়ে যাচ্ছে ঝড়ো হাওয়া। নদ-নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। মানুষের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে প্রস্তুতির কথা জানিয়ে খুলনা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে জেলার ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। মানুষ স্বেচ্ছায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন। যারা আসতে চাচ্ছেন না, তাদের পুলিশের সহযোগিতায় আনা হচ্ছে।’

এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে খুলনার নয়টি উপজেলার সকল ইউনিয়নে একটি ও প্রতি উপজেলা সদরে পাঁচটিসহ মোট ১১৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঝড়ের সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়টির পার্শ্ববর্তী এলাকার নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এজন্য মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ এই বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ এই বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
আর কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে সতর্কবার্তায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here