ডেস্ক রিপোর্টঃঃ লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই
কিলোমিটারের ভিতর ডলুছড়া এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি টেলিটকের
মুঠোফোনের টাওয়ার বসানোর কাজ চলছে। এই টাওয়ার বসানোর ফলে লাউয়াছড়ার
জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
মঙ্গলবার (০৮ মে) দুপুরে লাউয়াছড়ার পাশের
ডলুছড়া এলাকার এই জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, ১৪ জন শ্রমিক মিলে টাওয়ার তৈরির
জন্য মাটি কাটার কাজ করছেন। শ্রমিকরা মাটি কেটে কেটে পাশেই জমিয়ে রাখছেন
মাটি। সেখানে শ্রমিক ছাড়া মোবাইল কোম্পানির কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে এই কাজের ঠিকাদার অশোক দেববর্মা
মুঠোফোনে বলেন, এখানে টেলিটক কোম্পানির টাওয়ারের জন্য শ্রমিকরা কাজ করছে।
বন বিভাগ আমাদের সরাসরি কোন বাধা দেয় নি। তবে তারা বলেছে যেন দুই
কিলোমিটারের বাহিরে করি। বিট কর্মকর্তা এসে জায়গা দেখে গেছেন এবং সহকারী বন
সংরক্ষক যদি অনুমতি দেন তাহলে আমরা এখানে টাওয়ার বানাতে পারবো বলে
জানিয়েছেন।
লাউয়াছড়া বনের বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন
বলেন, বন কর্মকর্তার নির্দেশে আমি সরেজমিনে সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ
বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এসেছি। তারা কাজ বন্ধ রেখেছে। তারা যদি আবার টাওয়ার
বসানোর কাজ করে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাউয়াছড়া ইকো ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং
বলেন, লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য টাওয়ারের কাজ বন্ধ করা জরুরী।
‘লাউয়াছড়া বাঁচলে আমরা বেঁচে থাকব। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছি মুঠোফোনে
নেট না পেলে আমাদের কষ্ট হয় ঠিক, তবে আমরাও চাই না বনের ভেতর টাওয়ার বসুক।
লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এরকম উন্নয়ন আমরা চাইনা। লাউয়াছড়ায়
এমনিতেই বনের গাছ কেটে উজাড় করে ফেলা হচ্ছে। এমনিতেই এখানে জীববৈচিত্র্য
হুমকির মুখে, এখন এসব করে লাউয়াছড়ায় প্রাণীদের ক্ষতি না করার জন্য বন বিভাগ
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলে মনে করি।
লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা
আন্দোলনের আহবায়ক জলি পাল বলেন, এমনিতেই বনের গাছ কেটে উজাড় করে ফেলা
হচ্ছে। এখন যদি মুঠোফোনের টাওয়ার বসে,যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয় তাহলে গাছ
চোরদের সুবিধা তো আরও বাড়বে।
তিনি আরো বলেন লাউয়াছড়ার কাছে এরকম টাওয়ার
বসানো কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। এই টাওয়ার বসানোর ফলে লাউয়াছড়ায় মোবাইল
নেটওয়ার্ক বেশি পাওয়া যাবে। লোকজন বেশি বেশি যাতায়াত করবে এখানে
জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে, এখন এসব করে লাউয়াছড়ায় প্রাণীদের যাতে ক্ষতি না
করা হয়, সে বিষয়ে বনবিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ
করেন।
মৌলভীবাজার সহকারী বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী
ও প্রকৃতি সংরক্ষক বিভাগ) আনিসুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই
কিলোমিটারের ভিতরের ভিতরে এমন মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার বসানোর কোন অনুমতি
নেই। কোম্পানির টাওয়ারের রেডিয়েশনের প্রভাবে পাখির ডিম ও বন্যপ্রাণীর
জীববৈচিত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়াও বনে টাওয়ার বসালে নেটওয়ার্ক
শক্তিশালী থাকে। এতে গাছচুর চক্র নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজেই বনে অপকর্ম
করতে পারে। আমরা এখানে কোন অবস্থাতেই টাওয়ার বসাতে দিচ্ছি না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন