ফেইসবুকে মাশরাফিকে নিয়ে কটূক্তি করায় ছয় চিকিৎসকে শোকজ - Bangla24Press

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৮ মে, ২০১৯

ফেইসবুকে মাশরাফিকে নিয়ে কটূক্তি করায় ছয় চিকিৎসকে শোকজ

বাংলা ২৪ প্রেসঃঃ জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি করার অভিযোগে ছয় চিকিৎসককে শোকজ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামীমা নাসরীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ শোকজ নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হেমাটো অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিনের সহযাগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. পঞ্চানন দাশ, বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিকসের রেজিস্ট্রার ডা. আইরিন আফরোজ, নওগাঁ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা জলিল জুলি ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদী হাসান।
নড়াইল সদর আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা গত ২৫ এপ্রিল বিকালে আকস্মিকভাবে নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় হাজিরা খাতায় ৩ চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর এবং পরে অনুপস্থিত সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আকরাম হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আকরাম হোসেনকে উদ্দেশ্য করে মাশরাফি বলেন, ‘ফাইজালামি পাইছেন?....এখন বলেন আমি আপনারে কী করবো?....।’
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে অনেক চিকিৎসক মাশরাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে মাশরাফির পক্ষে অবস্থান নেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। মাশরাফির বিরুদ্ধে ফেসবুকে মন্তব্য করায় চিকিৎসকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মাশরাফিকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করা ছয় চিকিৎসককে শোকজ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক টাইমলাইনে মাননীয় সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা সম্পর্কে অশালীন এবং অযাচিত ভাষা ব্যবহার করে পাবলিক পোস্ট দেয়া, মাশরাফিকে বেয়াদব আর অশিক্ষিত গেঁয়ো মাস্তান ও হাফলেডিস ইত্যাদি বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, যেহেতু আপনার আচরণ একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য মানানসই নয় এবং অশোভনীয় আচরণ এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার (শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা-২০১৮) ৩ এর (খ) মোতা‌বেক অসাধাচারণ হিসেবে গণ্য।
এ কারণে আপনাকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) মোতা‌বেক অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করে কেন উক্ত বিধিমালার অধীনে যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না- তা এ নোটিশ প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হইল।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে ডা. মৌমিতা জলিল জুলি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নোটিশের জবাব মঙ্গলবার আমি দিয়েছি। তবে এখানে যেসব বিষয় বলা হয়েছে, অশালীন ভাষা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে সেখানে কিঞ্চিৎ বাড়াবাড়ি হয়েছে। কারণ এই কথাগুলো আমি বলিনি।’
ফেসবুক আইডিটি নিজের দাবি করলেও এখন আর সেটা ডা. জুলির নিয়ন্ত্রণে নেই বলে জানান জুলি। বলেন, ‘কিভাবে কি হয়েছে আমি জানি না। তবে আমি পরিস্থিতি স্বীকার হয়েছি। হতে পারে আমার প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য এই বাড়াবাড়ি করেছে। আমি যে মতামতটুকু লিখেছিলাম সেখানে অশালীন কোনো কথা ছিল না।’
আর অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. পঞ্চানন দাশ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি নোটিশ পেয়েছি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নোটিশের জবাব দিয়ে দিয়েছি। তবে আমি নিজে কোনো পোস্ট করিনি। একটা পাবলিক পোস্টে মন্তব্য করেছিলাম।’
(ঢাকাটাইমস/০৮মে/বিইউ/এমআর)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here