নুসরাত হত্যার এক মাস, মামলার অগ্রগতিতে ‘সন্তুষ্টি’ - Bangla24Press

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ১১ মে, ২০১৯

নুসরাত হত্যার এক মাস, মামলার অগ্রগতিতে ‘সন্তুষ্টি’

বাংলা ২৪ প্রেসঃঃ ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে আগুন লাগিয়ে হত্যার ঘটনার এক মাস পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার। গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। ঘটনার এক মাস পরে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে সন্তুষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নুসরাতের পরিবার।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই এর উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার শুক্রবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, শিগগির এ মামলার চার্জশিট দেয়া হবে।
২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা করে নিহত নুসরাতের পরিবার। সেদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনারই জের ধরে এপ্রিলের ৬ তারিখে মাদ্রাসার ভেতরের পরীক্ষার হল থেকে ডেকে ছাদে নিয়ে গিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন। শতকরা ৮০ ভাগ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ১০ এপ্রিল সেখানেই নুসরাতের মৃত্যু হয়।
পিবিআই প্রধান বলেন, ‘আমাদের মাঠের কাজ শেষ, মানে আলামত সংগ্রহ শেষ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, মানে চারটি বোরকা, কেরোসিনের পাত্র ইত্যাদি আলামত জব্দ করেছি। এ পর্যন্ত পুরো ঘটনায় ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছি, এর মধ্যে ১৬ জনই গ্রেপ্তার হয়েছে, ১২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’
‘এখন আমাদের দাপ্তরিক কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো শেষ হলেই আমরা চার্জশিট দিতে পারব।’
নুসরাতের পরিবার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। নুসরাত জাহানের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানিয়েছেন, ঘটনার এক মাস পার হলেও এখনো ঘটনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি তার পরিবার।
নোমান বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত মামলার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দিতে চায়, আমরা তাতে খুশি, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যাতে প্রকৃত কোনো দোষী বা আসামির নাম বাদ পড়ে না যায়, সে জন্য সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।’
ওই ঘটনার সময় ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন এবং একজন উপপরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে ১০ এপ্রিল তাকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এই নুসরাত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের ক্ষেত্রে এ ঘটনা কি কোনো প্রভাব রাখতে পেরেছে?
নারী অধিকার কর্মী নীনা গোস্বামী মনে করেন, একেবারেই কোনো প্রভাব নেই, কারণ নির্যাতনের ঘটনা থেমে নেই। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে টাঙ্গাইলে বাসে গণধর্ষণ করে রুপা নামের একটি মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল। মাত্র কয়েকদিন আগেও একইভাবে কিশোরগঞ্জে ইবনে সিনার নার্স একটি মেয়েকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। একটার পর একটা একই ধরণের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে চলেছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।’
‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো জবাবদিহিতা নেই, আবার বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মানুষের মনে কোনো অপরাধ করা নিয়ে কোনো ভীতিও কাজ করে না। যে কারণে এ ধরনের ঘটনা বন্ধও হচ্ছে না।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here